মুক্তিকামী বাঙালির প্রতি সীমাহীন ঘৃণা-বিদ্বেষ-অবজ্ঞা থেকেই পাকসেনারা অত্যন্ত বীভৎস কায়দায় নিধনযজ্ঞ শুরু করে। এ পৈশাচিক বর্বরতা অব্যাহত ছিল বিজয় পূর্ববর্তী আত্মসমর্ণের দিন পর্যন্ত। বাঙালি বুদ্ধিজীবী হত্যার মধ্য দিয়ে পাকসেনারা বাঙালি জাতিকে পঙ্গু ও মেধা-মননশূন্য করতেই শেষ কামড় দেয়। একাত্তরে গোটা মানিকগঞ্জ জেলায় কয়েক হাজার নর-নারী ও শিশু হত্যাযজ্ঞের নির্মম শিকার হন। এর মধ্যে রয়েছেন কয়েকশো বিভিন্ন পেশাজীবীর বুদ্ধিজীবী। তবে সর্বশেষ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রণীত শহিদ বুদ্ধিজীবীর সংজ্ঞা অনুযায়ী এ সংখ্যা প্রায় ষাট জনে এসে দাঁড়ায়। এদের মধ্যে কলেজ পর্যায়ের অধ্যক্ষ ও অধ্যাপক দুই জন, শিক্ষক বারো জন, চিকিৎসক নয় জন, চাকরিজীবী নয় জন, রাজনীতিক ও সমাজসেবী চার জন, নারীনেত্রী একজন, জনপ্রতিনিধি দুইজন, ব্যবসায়ী সাতজন, আইনজীবী দুই জন, গণসঙ্গীত শিল্পী দুইজন, ক্রীড়াবিদ দুই জন, জমিদার-জোতদার পাঁচজন ও পুরোহিত একজন। এছাড়া বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ পর্যায়ে মানিকগঞ্জ জেলার বেশ কয়েকজন তুখোড় ছাত্রনেতা, প্রখর মেধাবী, অসীম সাহসী মুক্তিযোদ্ধার জীবনী সংযুক্ত করা হয়েছে। কারণ তাঁরা জীবনের অপার সম্ভাবনা, উজ্জ্বল ক্যারিয়ারের হাতছানি ও সুখ-ভোগ চিন্তা না করে কেবল মাতৃভূমির স্বাধীনতায় মূল্যবান জীবন উৎসর্গ করেন। আমরা বিশ্বাস করি, তাদের অকাল মৃত্যু না হলে তাঁরা সকলেই নিজেদের সুপ্ত প্রতিভা, মেধা-মনন, অফুরন্ত প্রাণশক্তি-জিজীবিষা ও প্রাগ্রসর চিন্তা-চেতনার সমন্বয়ে দেশ ও দশের মঙ্গলে ব্যাপক অবদান রাখতে সক্ষম হতেন। এসকল অদম্য মেধাবী মুখ ফুলের মতো অকালে ঝরে গেলেও তাদের বিরাট ত্যাগ-তিতিক্ষা, সুমহান আদর্শ ও দর্শন আমাদের অন্তহীন প্রেরণা যোগাবে। তাই আমাদের দায় ও দায়িত্ব তাদের জীবন ও কর্ম বর্তমান নবীন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা।
earphonemobile chargersmartphoneiphone 15 pro maxearphone






