মুক্তিকামী বাঙালির প্রতি এমন সীমাহীন ঘৃণা-বিদ্বেষ-অবজ্ঞা থেকেই পাকিস্তানি সেনারা অত্যন্ত বীভৎস কায়দায় নিধনযজ্ঞ শুরু করে। এ হত্যাকাণ্ডের ধরনও ছিল বিচিত্র ও ভয়াবহ। যেমন- গুলি করে হত্যা, জবাই করে হত্যা, বেয়নেট চার্জ করে হত্যা, ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা, পিটিয়ে হত্যা, কেরোসিন বা পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যা, ইট-পাথর-সিমেন্টের বস্তা গলায় বেঁধে জলে ডুবিয়ে হত্যা, পেট কেটে হত্যা, হাত-পা বেঁধে জলে ফেলে হত্যা, জীবন্ত মাটিচাপা দিয়ে হত্যা, কুয়োতে ফেলে হত্যা, কুড়াল-ছ্যান-দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা, ইট-পাথর দিয়ে মাথা ও অণ্ডকোষ থেতলে হত্যা, দুই পা দুই দিক থেকে টেনে-ছিঁড়ে হত্যা, কারখানার বয়লারে বা পেষণ যন্ত্রে পিষে হত্যা, ইটভাটা বা উত্তপ্ত কারখানার আগুনে ফেলে হত্যা, শিশুদের আছড়িয়ে হত্যা, গাড়ির পেছনে বেঁধে টেনে-হিঁছড়ে হত্যা, বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হত্যা, নারীদের গণধর্ষণ ও জনন অঙ্গগুলো বিকৃত করে হত্যা, শরীর থেকে বিভিন্নভাবে রক্ত বের করে হত্যা, চোখ তুলে ও হাত-পা ভেঙে বা বিচ্ছিন্ন করে হত্যা, বন্দি অবস্থায় অনাহারে রেখে হত্যা এবং রোগাক্রান্ত বা অর্ধমৃতবস্থায় ফেলে দিয়ে শেয়াল-শকুনের খাদ্য বানিয়ে হত্যা। পাকিস্তানি সেনাদের এমন পাশবিক, নিখুত ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিটলারের নাৎসী বাহিনীকেও হার মানায়। এ প্রসঙ্গে মার্কিন দার্শনিক অলডুস হাক্সলির বক্তব্য স্মরণযোগ্য। তিনি বলেছিলেন— ‘পশুরা নয়, মানুষ একমাত্র মানুষই পারে খুব পরিকল্পিত ও সুসংগঠিতভাবে মানুষকে হত্যা করতে।’ এমন পৈশাচিক বর্বরতা মানিকগঞ্জসহ গোটা দেশে অব্যাহত ছিল বিজয় পূর্ববর্তী আত্মসমর্ণের দিন পর্যন্ত।
earphonemobile chargersmartphoneiphone 15 pro maxearphone






