মিনা শারমিন -এর রহস্যময় থ্রিলার উপন্যাস ‘খুন’।খুন শব্দটি শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে রক্তমাখা ছুরির হুংকারজড়ানো কোন ক্ষত-বিক্ষত দেহাবয়ব। কিন্তু চোখের সামনে ছটফট করতে থাকা জীবিত মানুষটির ভেতরকার রক্তাক্ত ক্ষতটিকে কী আমরা অনুভবের নামকরণে খুন বলে স্বীকৃতি দেই কখনও? জীবনভর অপকর্মে লিপ্ত থাকা অপরাধীসত্তাটি ঘোরে বা অঘোরে তার নিজ অনুভূতির কাছে খুন না হয়ে পারে কি? অথবা প্রিয়জন হারানো কোন নিঃসঙ্গ পথিক, যাকে তার অথর্ব জীবনটাকে শেষ না করতে পেরে তিলে তিলে বাঁচিয়ে রাখতে হয়! তার এই বেঁচে থাকাটাকেই কি আদৌ বেঁচে থাকা বলে? উপন্যাসটির নামকরণ করতে গিয়ে খুনের এই বিভিন্নমুখী সংজ্ঞার কাছে আমার ভাবনা মূর্ছিত হয়ে পড়ছিলো বারবার। সচারচর আমরা যে বুননে উপন্যাসের ভেতরের ভাবনাগুলি পড়তে অভ্যস্ত আমার খুনে সেই ধাঁচটি অনুপস্থিত। লেখক বা অন্যান্য চরিত্রের সরাসরি ভাবনাগুলো এ উপন্যাসটিতে নির্বাক। একজন অপরাধীর দৃষ্টিতে তার সমস্তজীবনের গল্পটা কেমন হতে পারে? ভাবনার গতি-প্রকৃতি, হৃদয়ের টানাপোড়েন এবং অন্যান্য চরিত্রগুলিকে বর্ণনা করার অনুভূতি একজন অন্ধকারযাত্রীর চোখ দিয়ে পড়ানোর এক ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা খুন? উপন্যাসটির গল্প বলার ধরণ তাই গতানুগতিক থেকে কিছুটা ভিন্ন। গল্প বলার এ নিজস্বীয়তাটুকুর ভালো লাগা-মন্দ লাগার পুরো দায় আমি কাঁধে তুলে নিলাম। তবে তদন্তকালীন সময়গুলিতে অন্যান্য চরিত্রগুলির ভেতরটাকে পড়ার একটা সুযোগ পাঠকদের জন্য অবশ্যই রয়েছে! আমার দেখা কোন এক সত্য ঘটনার ছায়া অবলম্বনে রচিত উপন্যাস খুন। কিন্তু গল্প... জীবন ..







