
কামরুল হাসান
শৈশবেই পিতাকে হারানো কামরুল হাসান বড়ো হয়েছেন শরিয়তপুর জেলার ডামুড্যা গ্রামে মামাবাড়ির জ্ঞানালোকিত পরিবেশে। সাহিত্যপ্রীতি ও বই পড়ার অভ্যাস সে পরিবেশ থেকেই লব্ধ। ছাত্রজীবনে মেধাবী ছিলেন; ঢাকা বোর্ডের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার মেধা তালিকায় স্থানলাভ তার প্রমাণ। চিকিৎসক হবার আকাঙ্ক্ষায় ভর্তি হয়েছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজে, কিন্তু আবেগগত কারণে ছেড়ে দেন। ভারত সরকারের বৃত্তি নিয়ে চলে যান আইআইটি খড়গপুরে। বিমান প্রকৌশলবিদ্যায় স্নাতক তিনি। পরবর্তী পড়াশোনা ব্যবসায় প্রশাসনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ-তে। ব্রিটেনের ব্রাডফোর্ড ও এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়েছেন স্নাতকোত্তর প্রশিক্ষণ। প্রথম জীবনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন। বহুবার চাকরি বদল করে থিতু হয়েছেন শিক্ষকতায়। পড়িয়েছেন দেশের বেশ কিছু শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। গত ১৯ বছর ধরে পড়াচ্ছেন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে। শিক্ষক হিসেবে ছাত্রদের মাঝে তুমুল জনপ্রিয়। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত এবং চার সন্তানের জনক। বহুবছর ধরে বাস করছেন রাজধানী ঢাকায়। শখ লেখালেখি, বইপড়া ও ভ্রমণ। আশির দশকের কবি, প্রকাশিত কাব্য ১৩টি। এছাড়া রয়েছে দুটি নির্বাচিত কবিতার সংকলন। কবিতা ছাড়াও ছোটগল্প, প্রবন্ধ ও ভ্রমণকথা লেখেন, অনুবাদ করেন বিদেশী সাহিত্য। প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ২৬। যুক্তরাজ্য, উজবেকিস্তান, ভারত ও অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণ নিয়ে রচনা করেছেন পাঁচটি ভ্রমণগ্রন্থ। সাম্প্রতিক আগ্রহ রাজধানীর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের বৈভব ও বিস্তার। ‘এই নগরীর সাহিত্যবাসর’ এরূপ গদ্যের প্রথম বই। কবিতার জন্য ২০২৩ সালে লাভ করেছেন ‘অরণি সাহিত্য পুরস্কার’।
